দেখুন যে অলৌকিক ঘটনার মাধ্যমে মালদ্বীপে ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল !!

sadia afrin

Publish On : 2 years ago

#এবং হাফেজে কুরআন। তার নাম হাফেজ আবুল বারাকাত। এই অচেনা অপরিচিত দ্বীপে কোথায় যাবেন তিনি? কে তাকে আশ্রয় দিবেন? এখানেতো তার কোন আত্মিয় স্বজন নেই!#অবশেষে এ আরব যুবক এক বৃদ্ধার বাড়ীতে আশ্রয় নিলেন । যুবকটি জংগলে কাঠ কেটে তা বিক্রি করে জিবিকা নির্বাহ করতেন ।এভাবেই চলছিল তার জীবন।একদিন যুবকটি বাড়ীতে এসে দেখলে, বৃদ্ধা কাঁদছেন পাশে তার যুবতি মেয়ে কাঁদছেন। যুবকটি বলল আপনারা কাঁদছেন কেন? কি হয়েছে আপনাদের?বৃদ্ধা বললেন আজ আমার মেয়ে মারা যাবে। যুবক বললেন কেন? তিনি মারা যাবেন কেন? তিনিতো সুস্থ! বৃদ্ধ আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করে বললেন, ঐ যে দেখুন মৃত্যু আমাদের সামনে।যুবক বাড়ীর সামনে তাকিয়ে দেখলেন রাজার সৈন্যরা দাড়ানো। যুবক বলল তারা কি আপনার মেয়েকে হত্যা করবে?বৃদ্ধা বললেন, না। ব্যপারটি তা নয়। রাজার সৈন্যরা আমার মেয়েকে নিয়ে যাবার জন্য এসেছে। কেননা, আমাদের এই দ্বীপে প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট তারিখে এক সামুদ্রিক বিপদের উদ্ভব হয়। যার থেকে রক্ষা পাবার উপায় হলো, আমাদের দ্বীপ বাসীদের পক্ষ থেকে এক যুবতি মেয়েকে ঔদিন সূর্য ডোবার পর সমুদ্র উপকুলে একটি মন্দির আছে, সেখানে রেখে আসতে হয়। পরের দিন সকালে সরকারী লোকজন সমুদ্রের কিনারা থেকে ঐ মেয়ের মৃত দেহ উদ্ধার করে আনে । প্রতিবারই লটারীর মাধ্যমে নিরুপন করা হয়-কোন মেয়েকে পাঠানো হবে। এবার লটারীতে আমার মেয়ের নাম উঠেছে। তাই আজ রাতে তাকে সমুদ্র উপকুলে পাঠাতে হবে। সেখানে তার মৃত্যু অনিবার্য ।যুবক বৃদ্ধার এমন বেদনাদায়ক কথা শুনে বললেন, আজ আপনার মেয়েকে সেখানে পাঠাতে পারবেননা । আজ রাতে আমি নিজেই সেখানে যাব। দেখি সেখানে কি হয়। প্রয়োজনে আপনার মেয়ের পরিবর্তে আমার জান দিয়ে দিব।এর পর যুবক বললেন রাজার সৈন্যরা যাতে চিনতে না পারে, তাই আপনার মেয়ের পোশাক আমাকে পরিয়ে দিন। আমিই আজ তাদের সাথে যাব।উল্লেখ্য যে, যুবকের বয়স ছিল খুবই কম। তাঁর দাড়ী গোফ কিছুই গজায়নি কাজেই মেয়ের বেশে তার ধরা পড়ার আশংকা ছিলোনা। বৃদ্ধা যুবকটিকে নির্ঘাত মৃত্যুর দুয়ারে ঠেলে দিতে রাজি হচ্ছিলেননা। কিন্তু যুবকটি বুঝালেন যে তিনি মুসলমান। মুসলমানগন আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে ভয় পায়না। আর জীবন মৃত্যু আল্লাহর হাতে। আল্লাহর হুকুম না হলে কেউ কাউকে মারতে পারেনা। তা ছাড়া তিনি হাফেজে কুরআন। তাই তার বিশ্বাস আল কুরআনের বরকতে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে হিফাজত করবেন। এভাবে যুবকটি বৃদ্ধাকে নানাভাবে বুঝালেন। শেষ পর্যন্ত যুবকটির অত্যাধিক পীড়াপীড়িতে বৃদ্ধা রাজী হলেন।অতঃপর রাজার সৈন্যরা তাকে সেখানে রেখে চলে এলো। যুবক সেখানে উত্তম রুপে অজু করে ইশার নামাজ আদায় করলেন । তারপর খোলা তলোয়ার সামনে রেখে সমুদ্রের ঢেউ দেখতে লাগলেন , এবং পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করতে লাগলেন।রাত গভীর হতে লাগল। চারিদিকে নিস্তব্ধতায় ছেয়ে গেল । প্রকৃতি নিদ্রার কোলে ঢলে পড়লো। শুধু মাত্র তিনটি প্রান জেগে রইল, যাদের চোখের নিদ্রা বিদুরিত হয়েছে। তাদের এক হলো আরব যুবক,যার চোখ ছিল সমুদ্রের দিকে আর বুকে ছিল ঈমানের বল। আরেক জন জাগ্রত ছিল সে ছিল গরীব বৃদ্ধা । উদার দিল আরব যুবকের চিন্তায় সে ছিল অস্থির। আর তৃতীয় যে প্রানটি জেগে রইল সে হল যুবতী কন্যা, যে আরবের যুবকের চিন্তায় অনবরত কেঁদেই চলছিল।#হাফেজে কুরআন যুবকটি অন্ধকার রাতের এ নিথর পরিবেশে সমুদ্রের কিনারস্থ সেই ভয়ংকর মন্দিরে বসে অত্যন্ত হৃদয়স্পশী সুরে কুরআন তিলাওয়াত করে যাচ্ছিল। এ মহুর্তে সকল অপশক্তির মোকাবিলায় কুরআনই তার অমোঘ হাতিয়ার। #হঠাৎ করে সমুদ্রে দিগন্ত থেকে বিশাল আকৃতির এক ভয়ংকর দৈত্যের উদয় হলো। দৈত্যটি ধীরে ধীরে সমুদ্রের কিনারার দিকে মন্দিরের অভিমুখে আসতে লাগল। মন্দিরের কাছাকাছি এসে দৈত্যটি থেমে গেল। যুবক কুরআন তিলাওয়াত করে যাচ্ছিলেন। কুরআন তিলাওয়াত করার কারনে দৈত্যটি সামনে অগ্রসর হতে পারল না।#অবশেষে হার মানলো ভয়ংকর দৈত্যটি। সামান্য সময় অবস্থান করে দৈত্যটি যে পথে এসেছিল সে পথে ফিরে গেল। দৃশ্যের অন্তরালে মিলিয়ে গেল দৈত্যটি। সকাল হলো। সরকারি লোকজন মেয়েটির লাশ নেওয়ার জন্যে মন্দিরে এলো।এসে তারা হতভম্ব হয়ে গেল। সেখানে কোন লাশ নেই কোন মেয়েও নেই। তার পরিবর্তে এক মুসলিম যুবক রয়েছে।তারা রাজার দরবারে যুবককে নিয়ে এলো এবং যুবকটি রাজার নিকট সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। তখন রাজা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মেয়েকে ডেকে আনলেন । তারা রাজার কাছে ঘটনাটির সত্যায়ন করলেন।সকাল হলো। সরকারি লোকজন মেয়েটির লাশ নেওয়ার জন্যে মন্দিরে এলো।এসে তারা হতভম্ব হয়ে গেল। সেখানে কোন লাশ নেই কোন মেয়েও নেই। তার পরিবর্তে এক মুসলিম যুবক রয়েছে।তারা রাজার দরবারে যুবককে নিয়ে এলো এবং যুবকটি রাজার নিকট সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। তখন রাজা নিশ্চিত হওয়ার জন্য মেয়েকে ডেকে আনলেন । তারা রাজার কাছে ঘটনাটির সত্যায়ন করলেন।যুবকের মুখে সব কথা শুনে রাজা সীমাহীন প্রভাবিত হলেন। রাজা বললেন, হে যুবক! এত বড় বিপদের সামনে তুমি একাকী দাড়ালে কিভাবে? যুবক বললেন, আমি একা ছিলাম না আমার সাথে আমার আল্লাহ ছিলেন। আর আমার হাতিয়ার ছিল মহান আল্লাহর পবিত্র কুরআন।রাজা জিজ্ঞেস করলেন তুমি ভয় পাওনি কেন? যুবকটি বললেন, মুসলমান আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পায়না। জীবন ও মৃত্যুর মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ।এরপর রাজা বললেন আগামী বছর এভাবে একা থামতে পারবে? যুবক দৃঢ়তার সাথে উত্তর দিলেন, আল্লাহর হুকুমে একাই যেতে পারবো। তখন রাজা অতি উৎসাহিত হয়ে বলে উঠলেন, যদি তুমি পার, তাহলে আমরা সবাই ইসলামের সততার সামনে মাথা নত করবো।রাজার এ কথাকে সবাই সমর্থন করলো।এরপর পরবর্তী বছর নির্ধারিত তারিখের ঘটনা সবাই প্রত্যক্ষ করলো, যুবক তার সত্যতা প্রমান করলো। এ ঘটনার পর থেকে সে বিপদ মালদ্বীপে আর আসেনি ।তখন রাজা ও তার দরবারের সবাই ইসলাম গ্রহন করেন। অতপর সেই রাজ্যের মানুষ দলে দলে ইসলাম গ্রহন করতে থাকে। প্রথম দিনেই পয়ষট্টি হাজার লোক মুসলমান হলেন এবং এ ধারা অব্যহত গতিতে চলতে থাকলো। সুবহানআল্লাহ। #তথ্যসুত্র:তারিখে ইবনে বতুতা! #ইসলামের আলো ছড়িয়ে পড়েছিল #ইতিহাস #ফেরাউনের লাশ #পৃথিবীর কিছু ভয়ংকর নিদর্শন #সপ্তম আশ্চর্য #কাবা শরিফ #কবর #পৃথিবীর রহস্য

Related Videos